আনামুল হক বিজয় জাতীয় দলে আসার আগেই দেশের ক্রিকেটপ্রেমিদের কাছে সুপরিচিত পান। পাবেন নাই বা কেনো, ২০১২ অ-১৯ বিশ্বকাপে টপ রান স্কোরার হয়েছেন, এর আগে কোন বাংলাদেশিই বা এমন রেকর্ড করেছেন! তাই আশা ভরসা ছিলো অনেক। সেই আশার প্রতিদান বিজয় অবশ্য প্রথম সিরিজেই দিয়েছেন, প্রথম ম্যাচে ৪১ করে দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি৷ সেই রানের ধারাবাহিকতা আনামুলের ২০১৫ পর্যন্ত ছিল বটে; কিন্তু বিজয়ের ক্ষেত্রে যেটা সমস্যা ছিলো, সেটা হচ্ছে স্ট্রাইকরেট ও ক্ষেত্রবিশেষে সেলফিশনেস। সেই ছোট্ট ব্যাপারটা মনে করেই এই পোস্ট।
আনামুল বিজয় তার ক্যারিয়ারে ৩টা সেঞ্চুরি করেছেন, ৩ টা সেঞ্চুরি করতেই বল নিয়েছেন ১৩০ এর বেশি! তবে আলোচনা করি প্রথম দুইটা নিয়েই!
প্রথম সেঞ্চুরি: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২০১২ সালে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আনামুল সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। ১১৫ বলে ৯০ ছিল আনামুলের, সেখান থেকে আনামুল সেঞ্চুরি করেন ১৩৮ বলে! মানে ২৩ বলে করে ১০ রান! স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে সেঞ্চুরির জন্য স্লো করেন তিনি। সেট ব্যাটার হয়ে ২৩ বলে ১০ করলেন, অথচ অপরপ্রান্তে নতুন ব্যাটার মুমিনুল করলেন ২৫(২৫)!
তবে আমি সেই ম্যাচ নিয়ে বিজয়কে সমালোচনা করতে নারাজ কারণ সেটা ছিল বিজয়ের দ্বিতীয় ম্যাচ, ক্যারিয়ারটা কেবল শুরু। প্রথম সেঞ্চুরির জন্য স্লো হলে সেটাতে ঢালাও করে সমালোচনা করতে পারিনা। আবার ওই ম্যাচে কিন্তু সেঞ্চুরি করার পরের ৭ বলে ২০ রান করেন বিজয়, তাই বলা যায় ইনিংস কিছুটা পুষিয়ে দিয়েছেন, আবার ম্যাচটাও জিতে।
দ্বিতীয় সেঞ্চুরি: দ্বিতীয় সেঞ্চুরি আসে এশিয়া কাপ ২০১৪তে। ঝামেলাটা এখানেই। প্রথম সেঞ্চুরিটাকে সমালোচনায় না আনলেও দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটাকে করতেই হয়৷ ১০৫ বলে ৮৫ থেকে, আনামুলের শতক করে ১৩০ বলে! ২৫ বলে আসে ১৫টা রান! অপরপ্রান্তে ব্যাটার আবারও মুমিনুল, তার ব্যাট থেকে কিন্তু ঠিকই ৩২(২৯) রান থাকে। আরেকটা উল্লেখযোগ্য বিষয় দেখেন, আনামুল যখন সেঞ্চুরি পূরণ করেন, তখন গ্রাফিক্স দেখাচ্ছে শেষ ২২ বলে মাত্র ১৩ রান এসেছে! আনামুলের এক পর্যায়ে ৯৭(১২২) ছিল, সেখান থেকে ৩ করতে নিলেন ৮ বল। দুঃখের ব্যাপার এই যে প্রথম সেঞ্চুরিতে পুষিয়ে দিলেও পরের সেঞ্চুরিটায় পুষানোর আগেই আউট!
তৃতীয় শতকে এক বিস্ময়কর ব্যাপার ঘটে অবশ্য। ৯২(১৩১) থেকে আনামুল ২ চারে ১০০(১৩৩) এ চলে যায়। অর্থাৎ, বিজয় কিন্তু হিট করতে পারে, কিন্তু এদিন পেরেছিলেন কারণ সেটা ৪৯তম ওভার ছিলো। ডট দিলে দেখা যেত সেঞ্চুরি মিস হয়ে যেতে পারে।
বিজয় প্রথমদিকে রান করার পরও হাথুরুর অপছন্দের তালিকায় চলে যেতে থাকেন এই 'সেল্ফ ফার্স্ট' মেন্টালিটির জন্যই। এরপর ইঞ্জুরিতে পড়ে খুব দ্রুত ফিট হলেও হাথুরু সৌম্যকে দিয়েই খেলিয়েছেন। তার পর থেকেই নিজেকে হারিয়ে খুজছেন এই ক্রিকেটার। জদিও এখন টেস্ট দলে আছেন কিন্তু যত গুলো ম্যাচে সুজোগ পেয়েছেন একটাতেও কাজে লাগাতে পারেন নি তিনি। শাহরিয়ার নাফিজ মতন তাহলে কি হারি ফেলতে বসেছি এই ক্রিকেটার কে?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন